ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে হামলায় জড়িত ছাত্রদল নেতাদের বিচার চায় শিবির

ads

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদ এবং এতে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। 


তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে গুন্ডা ও টোকাইদের নিয়ে এই ‘সশস্ত্র হামলা’ চালানো হয়েছে। অনতিবিলম্বে এই অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।


সংবাদ সম্মেলনে শিবির সভাপতি ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রামে সিটি কলেজে শিবিরের নিয়মিত দাওয়াতি কাজ ও দেয়াল লিখন কর্মসূচি চলছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ছাত্রদলের কর্মীরা শিবিরের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলছে। 


বিশেষ করে সোমবার জুলাই বিপ্লবের একটি গ্রাফিতি মুছে দিয়ে সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দসহ বিভিন্ন আপত্তিকর শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে উস্কানি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করে ফেরার পথে ভবনের নিচে অবস্থানরত ছাত্রদল কর্মীরা শিবিরের দায়িত্বশীলদের ওপর হামলা চালায়। পরে বিকেলে এর প্রতিবাদে মিছিল বের করলে মিছিলে অস্ত্র নিয়ে পেছন থেকে অতর্কিত আক্রমণ করা হয়, যাতে এক কর্মীর পায়ের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।নুরুল ইসলাম সাদ্দাম পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, হামলার সময় পুলিশ প্রশাসন কোনো সহযোগিতা করেনি, বরং তারা আওয়ামী আমলের মতো আচরণ করেছে। 


তিনি দাবি করেন, ছাত্রদল এখন ‘ছাত্রলীগ প্রো-ম্যাক্স’ ভার্সনে পরিণত হয়েছে। ছাত্রলীগের মতো হেলমেট পরে ও হাতে অস্ত্র নিয়ে তারা ক্যাম্পাসে দখলদারিত্ব কায়েম করতে চাইছে। তাঁর দাবি, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্রদল বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ৩১ জনকে হত্যা করেছে এবং শতাধিক ধর্ষণের ঘটনার সাথে যুক্ত থাকলেও তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা ঢাকতেই সরকার ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করছে।


শিবির সভাপতি আরও বলেন, ছাত্রদল জুলাই বিপ্লবকে অন্তরে ধারণ করে না বলেই তারা বিভিন্ন স্থানে গ্রাফিতি ও স্মৃতিচিহ্ন মুছে দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ছাত্রদলের কমিটিতে সাবেক ছাত্রলীগ ও হেলমেট বাহিনীর সদস্যদের পদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ছাত্রশিবির সব ভালো কাজে সহযোগিতা করতে চায়, কিন্তু কোনো অন্যায় বরদাশত করবে না। দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির রাজনীতি ছেড়ে ছাত্রদলকে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পথে আসার আহ্বান জানান তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শিবির সভাপতি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজের গ্রাফিতি বিকৃতির ভিডিও তাঁদের কাছে আছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে একই কায়দায় হামলার ঘটনা ঘটিয়ে শিবিরের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চলছে। এই ধরণের অরাজকতা বন্ধ না হলে ছাত্রসমাজ কঠোর জবাব দেবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ads
ads
ads

Our Facebook Page